একজন মানুষের আত্মহত্যার ঝুঁকি রয়েছে কি না, সেটা আগে থেকে শনাক্ত করতে পারলে চিকিৎসকেরা হয়তো রোগীকে সময়মতো পরামর্শ দিতে পারতেন। তাতে আত্মহত্যা কিছুটা হলেও রোধ করা সম্ভব হতো।
বিশ্বজুড়ে প্রতিবছর প্রায় ১০ লাখ মানুষ আত্মহত্যা করে। আত্মহত্যাপ্রবণ করে তোলার জন্য দায়ী এক ধরনের প্রোটিন গবেষকেরা এই প্রথমবারের মতো শনাক্ত করেছেন। তাঁরা এখন রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে সেই প্রোটিনের মাত্রা নির্ণয়ের কৌশল আবিষ্কারের চেষ্টা করছেন। মলিকিউলার সাইকিয়াট্রি সাময়িকীতে এ গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক আলেক্সান্ডার নিকুলেস্কু আত্মহত্যাপ্রবণ নয়জন ব্যক্তির মরদেহ থেকে সংগৃহীত রক্ত পরীক্ষা করে তাতে বিভিন্ন জিন সংকেতের তুলনামূলক পার্থক্য নির্ণয় করেন। এতে চারটি জিনের উপস্থিতি বেশি বলে শনাক্ত করা হয়। এসব জিনের সংকেত নির্ধারক কয়েকটি প্রোটিন মানুষের মানসিক চাপ এবং কোষের মৃত্যুর জন্য দায়ী। গবেষকেরা ৪২ জন আত্মহত্যাপ্রবণ জীবিত ব্যক্তির রক্তে এ ধরনের প্রোটিনের মাত্রা পর্যবেক্ষণ করেন।
তবে গবেষণাটি এখনো অসম্পূর্ণ রয়েছে। আত্মঘাতী ব্যক্তিরা বিষণ্নতা বা সিজোফ্রেনিয়ার মতো রোগ ও অন্যান্য কিছু সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে থাকেন। আর আত্মহত্যার প্রবণতাকে কেবল মানসিক রোগ হিসেবে সীমাবদ্ধ করে দেওয়ার সুযোগ নেই।
নেচার ও নিউ সায়েন্টিস্ট।
সূত্র: দৈনিক প্রথম আলো, আগস্ট ২১, ২০১৩


ডেঙ্গু হলেই রক্ত দেওয়ার ধারণা ঠিক নয়
Leave a Reply