• Skip to main content
  • Skip to header right navigation
  • Skip to site footer

Bangla Health Tips

Bangla Health Tips, News and Information (বাংলা হেলথ টিপস)

হোম / স্বাস্থ্য সংবাদ / মেয়েদের মুত্রনালির সংক্রমণ

মেয়েদের মুত্রনালির সংক্রমণ

March 15, 2008 Category: স্বাস্থ্য সংবাদ

মুত্রনালির সংক্রমণ ও প্রদাহ বলতে সাধারণত মুত্রথলির ও মুত্রদ্বারের সংক্রমণকে বোঝায়, যা সময়মতো চিকিৎসা না করালে মুত্রনালি বা ইউরেটার এবং বৃক্ক বা কিডনির সংক্রমণ ও প্রদাহে রুপ নিতে পারে।

মুত্রনালির সংক্রমণ খুব বেশি দেখা দেয় মেয়েদের মধ্যে। কারণ, মেয়েদের ক্ষেত্রে মুত্রদ্বার ও যোনিপথ খুব কাছাকাছি অবস্হান করে। মেয়েদের যোনিপথে নানা কারণে সংক্রমণ ও প্রদাহের সৃষ্টি হয় খুব সহজেই। যেমন ধরুন মাসিক ঋতুস্রাবের সময় যোনিপথে রক্তক্ষরণ হয় এটা একটা স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় ব্যাপার। কিন্তু রক্তে ব্যাকটেরিয়া বা জীবাণুর বংশবৃদ্ধির জন্য খুবই উপযুক্ত মাধ্যম। মাসিক ঋতুস্রাবের সময় অনেকক্ষেত্রে মেয়েরা ময়লা, ছেঁড়া ও নোংরা নেকড়া জাতীয় কাপড় স্ত্রী-অঙ্গে ব্যবহার করেন, এতে জীবাণু প্রথমে যোনিপথে ও পরে তৎসংলগ্ন মুত্রনালিকে সংক্রমিত করে।

এরপর আসুন প্রসবজনিত স্বাস্হ্যসমস্যা প্রসঙ্গে। এ সময় যোনিপথে সন্তান প্রসবের কারণে নানা প্রকার ক্ষতের সৃষ্টি হয় এবং রক্তক্ষরণ ও রস নিঃসৃত হয়। শারীরিক দুর্বলতার জন্যও এ সময় জীবাণু সহজেই শরীরকে কাবু করে ফেলে। আগেই বলেছি রক্তমিশ্রিত রস জীবাণুর বংশবৃদ্ধি ও বিস্তারে অত্যন্ত সহায়ক। তাই এ সময় জরায়ু ও যোনিপথের প্রদাহ ও সংক্রমণের সঙ্গে মুত্রনালির সংক্রমণটা ঘটা খুবই স্বাভাবিক।

গর্ভবতী অবস্হায় ও প্রসব-পরবর্তী প্রচুর পরিমাণে পানি পান করা উচিত। এ সময় পানি কম খেলে মুত্রনালির প্রদাহ ও সংক্রমণ বেড়ে যায়। কারণ গর্ভকালে মেয়েদের শরীরের প্রোজেসটেরন (Progesteron) নামক এক প্রকার স্ত্রী হরমোন খুব বেশি পরিমাণে নিঃসৃত হয়। এ হরমোনের প্রভাবে শরীরের নরম ও মসৃণ মাংসযুক্ত নালিগুলো সম্প্রসারিত হয়, ফলে মুত্রবাহী নালিও সম্প্রসারিত হয়। এর ফলে ওই সময় পানি কম খেলে প্রস্রাবের বেগ আরো কমে যাবে এবং প্রস্রাবের কিছুটা তলানি (Residual urine) সবসময় মুত্রবাহী নালিতে জমে থাকার আশঙ্কা থাকবে, যা জীবাণু বৃদ্ধির জন্য খুবই সহায়ক। তাই গর্ভাবস্হায় প্রস্রাবের প্রদাহ এবং মুত্রনালির সংক্রমণ ও প্রদাহ বেশি হয় অন্য সময়ের চেয়ে।

লক্ষণ
–মুত্রনালি এবং বৃক্ক বা মুত্রগ্রন্হির বা মুত্রথলির প্রদাহ হলে প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া করবে।

–প্রস্রাব পরিমাণে কম হতে পারে।

–খুব ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ হবে।

–তলপেটে ব্যথা ও যন্ত্রণা হবে। প্রস্রাব করার পরও রোগিনী অস্বস্তি ও যন্ত্রণা থেকে রেহাই পাবে না এবং বারবার সে বাথরুমে ছুটে যাবে কিংবা দীর্ঘসময় প্রস্রাবের জন্য বসে থাকবে।

–কাঁপুনি দিয়ে জ্বর হবে এবং জ্বরের সময় বেশ শীত ভাব অনুভুত হবে।

–রোগিনী বেশ অসুস্হ ও দুর্বল থাকবে।

প্রতিকার কী?
এ প্রদাহ বা সংক্রমণের প্রকোপকে অতি সহজেই প্রতিকার করা সম্ভব। আর তা হলো একটিমাত্র সহজ উপায়ে এবং এতে কোনো টাকা-পয়সাও খরচ করতে হয় না। আজকের দুর্মুল্যের বাজারে টাকা-পয়সার কথাটাও ভাবতে হবে বৈকি। এ আপাত সহজ অথচ মারাত্মক পরিণতির হাত থেকে রেহাই পাবার একমাত্র উপায় প্রচুর পরিমাণে পানি পান করা। সারাদিন অন্তত ১৫/২০ গ্লাস পানি বা পানিজাতীয় খাবার খাবেন, যেমন ধরুন শরবত, ডাবের পানি, ফলের রস ইত্যাদি। ডাব প্রস্রাবের বা মুত্রনালির সংক্রমণ প্রতিকারে খুবই উপকারী।

এছাড়া মাঝে মধ্যে প্রস্রাবের প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা করে দেখা উচিত কোনো প্রকার জীবাণু সংক্রমণ আছে কি না। বিশেষ করে গর্ভাবস্হায় নিয়মিত চেকআপ করানো এবং প্রস্রাবে অ্যালবুমিন এবং সুগার আছে কি না তাও অবশ্যই দেখতে হবে।

মুত্রনালির সংক্রমণে ক্ষতির আশঙ্কা
মুত্রনালির প্রদাহে ও সংক্রমণে শরীরে সমুহ ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। এ জাতীয় প্রদাহ ও সংক্রমণে আস্তে আস্তে কিডনি বা বৃক্ক আক্রান্ত হয়ে কিডনির কার্যক্ষমতা নষ্ট করে ফেলতে পারে। এছাড়া জ্বরের প্রকোপে ও প্রস্রাবের অসহ্য জ্বালা যন্ত্রণায় রোগিনী খুব দুর্বল ও ভগ্নস্বাস্হ্য হয়ে পড়ে। এটি বিশেষভাবে মনে রাখতে হবে যে, মুত্রনালি সংক্রমণের চিকিৎসা যথাসময়ে না করালে কিডনি নষ্ট হয়ে যাবার এবং রোগিনীর প্রাণনাশের সমুহ আশঙ্কা থাকে।

উপসংহার
মুত্রনালি প্রদাহ ও সংক্রমণ খুবই ছোঁয়াচে রোগ এবং এ রোগের জীবাণু খুব সহজেই সংক্রমিত হতে পারে। মুত্রনালির, মুত্রথলির বা কিডনির কোনো প্রকার প্রদাহ ও সংক্রমণ যাতে না হয় সেজন্য সামান্য সতর্কতাই যথেষ্ট। যেমন সব সময় প্রচুর পানি পান করা, গর্ভবতী মায়েদের নিয়মিত চেকআপ করানো এবং প্রদাহ বা সংক্রমণের সামান্য লক্ষণ প্রকাশ পেলে সত্বর চিকিৎসার ব্যবস্হা নেয়া উচিত। এতে আমরা সুস্হ থাকব এবং কিডনি হারানোর মতো গুরুতর বিপত্তির হাত থেকে রক্ষা পাব।

—————————–
প্রফেসর ডাঃ সুলতানা জাহান
লেখকঃ চেয়ারম্যান ও বিভাগীয় প্রধান গাইনি অবস, বি এস এম এম ইউ
আমার দেশ, ১৫ মার্চ ২০০৮

Tag: ঋতুস্রাব, কিডনি, পেটে ব্যথা, প্রস্রাব, মাসিক

You May Also Like…

হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি

হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি ১২ বছর আগেই টের পাওয়া যায়, সতর্ক হবেন কীভাবে

কোলন ক্যানসার

কোলন ক্যানসারকে আইবিএস ভেবে ভুল করছেন না তো?

ক্যানসার

বংশে কারও ক্যানসারের ইতিহাস থাকলে আপনি কতটা ঝুঁকিতে

জ্বরের সঙ্গে শরীর ও গিঁটে ব্যথা

জ্বরের সঙ্গে শরীর ও গিঁটে ব্যথা

Previous Post:এলার্জিজনিত রোগ ও চিকিৎসা
Next Post:হার্ট অ্যাটাকের আধুনিক চিকিৎসা প্রাইমারি পিসিআই

Reader Interactions

Leave a Reply Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Bangla Health Tips – Bangla Library – Bangla PDF

top