• Skip to main content
  • Skip to header right navigation
  • Skip to site footer

Bangla Health Tips

Bangla Health Tips, News and Information (বাংলা হেলথ টিপস)

হোম / স্বাস্থ্য সংবাদ / নারীর একান্ত সমস্যা

নারীর একান্ত সমস্যা

May 26, 2010 Category: স্বাস্থ্য সংবাদ

আজকে আমরা যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব তা হলো মেয়েদের হাঁচি-কাশির সঙ্গে বেগ ছাড়াই অনিয়ন্ত্রিত প্রস্রাব বেরিয়ে যাওয়ার সমস্যা। চিকিৎসা পরিভাষায় একে বলা হয় ‘ইউরিনারি স্ট্রেস ইনকন্টিনেন্স’। বাংলাদেশের মেয়েদের কত শতাংশ এ সমস্যায় ভুগছে তার সঠিক পরিসংখ্যান না জানা থাকলেও হাসপাতালে এবং ব্যক্তিগত চেম্বারের অভিজ্ঞতা থেকে অনুমেয় যে এ সংখ্যা একেবারে কম নয়। চিরকালীন স্বভাবজাত লজ্জায় আমাদের মেয়েরা যতক্ষণ পারেন সহ্য করেন, আর যেহেতু এটা জীবন সংহারী কোনো অসুখ নয়, তাই সহজে চিকিত্সকের শরণাপন্ন হন না। কিন্তু ধীরে ধীরে জীবনযাপনের মান নেমে আসতে থাকে।
স্বাভাবিক অবস্থায় যত প্রবল কাশি আর যত জোরেই হাঁচি আসুক না কেন, কখনো প্রস্রাব বেরিয়ে যাবে না। প্রস্রাবের বেগ চাপলেও মানুষ যথাযথ সুযোগ এবং স্থান না পেলে দীর্ঘ সময় পর্যন্ত প্রস্রাব ধরে রাখতে পারে। কিন্তু যাঁরা ইউরিনারি স্ট্রেস ইনকন্টিনেন্সে ভুগছেন, তাঁদের হাঁচি, কাশি বা হাসির সঙ্গে প্রস্রাব বেরিয়ে যায়, যার ওপর নিজের কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকে না। প্রাথমিক অবস্থায় প্রচণ্ড হাঁচি বা প্রবল কাশির সঙ্গে হঠাত্ করে সামান্য প্রস্রাব বেরিয়ে যায়, কিন্তু বয়স এবং অসুখের তীব্রতা বৃদ্ধির সঙ্গে সামান্য হাঁচি, কাশি বা হাসিতেই প্রস্রাব বেরিয়ে যেতে পারে। অবস্থার আরও অবনতি হলে শারীরিক অবস্থান পরিবর্তনের সঙ্গে, যেমন—বসা থেকে দাঁড়াতে গেলে, কোনো ভারী জিনিস তুলতে গেলেই প্রস্রাব বেরিয়ে যেতে পারে, এমনকি অনেক সময় শারীরিক মিলনের সময়ও প্রস্রাব নির্গত হতে পারে। এ সমস্যা জীবন সংশয়ী নয়, কিন্তু স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় অত্যন্ত নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
যত্রতত্র হঠাত্ করে কোনো পূর্ব সতর্কীকরণ ছাড়া প্রস্রাব বের হওয়ার ফলে কাপড় নষ্ট হয়ে যায়, পরিচ্ছন্ন থাকার জন্য বারবার কাপড় বদলাতে হয়। সমস্যা আরও বেড়ে গেলে অনেককে নিয়মিত স্যানিটারি প্যাড ব্যবহার করতে হয়। নিয়মিত নামাজ পড়া বা অন্য ধর্মীয় কাজে বিঘ্ন ঘটে। এ ছাড়া প্রস্রাব দিয়ে ভেজা থাকার জন্য শারীরিক মিলনিপথের আশপাশে ছত্রাক সংক্রমণ ও ঘা হতে পারে। প্রস্রাবে জীবাণু সংক্রমণ হতে পারে। বিব্রতকর পরিস্থিতি এড়াতে অনেকে সামাজিক আচার-অনুষ্ঠানে যাওয়া ছেড়ে দেন। একপর্যায়ে আত্মবিশ্বাসে চিড় ধরে এবং রোগী বিষণ্ন্নতায় ভুগতে থাকেন। শারীরিক মিলনের সময় অনিচ্ছাকৃত প্রস্রাব বের হলে তা স্বামী-স্ত্রীর শারীরিক মিলনজীবনে অস্থিরতা ও উত্কণ্ঠা তৈরি করে। যাঁরা নিয়মিত খেলাধুলা বা ব্যায়াম করেন, এ সমস্যায় তাঁদের ক্রীড়ানৈপুণ্যে ব্যাঘাত ঘটতে পারে। স্ট্রেস ইনকন্টিনেন্সের সঙ্গে প্রস্রাবের অন্যান্য সমস্যা যেমন, বেগ এলে প্রবল তাড়া অনুভব এবং মূত্র ত্যাগে বিলম্বিত করতে না পারা, কিংবা টয়লেটে পৌঁছানোর আগেই কাপড়ে প্রস্রাব হয়ে যাওয়া ইত্যাদি সমস্যাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
স্ট্রেস ইনকন্টিনেন্সের চিকিৎসায় যাওয়ার আগে এ সমস্যায় যেসব বিষয়কে ঝুঁকি হিসেবে গণ্য করা হয়, তা একটু জানা যাক। স্থায়ী ঋতুস্রাব বা মেনোপজের ফলে অথবা অন্য কোনো কারণে শরীরে এস্ট্রোজেন নামের হরমোন কমে যাওয়ার জন্য বা জননাঙ্গপথে প্রস্রাব বিশেষ করে বিলম্বিত কষ্টকর প্রস্রব এবং যেসব প্রস্রবে ফরসেপস ব্যবহার করা হয় সে ধরনের প্রসবের কারণে, মূত্রাশয় এবং মূত্রনালির স্বাভাবিক অবস্থান রক্ষায় যেসব পেশি কাজ করে সেগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে হঠাত্ হাঁচি, কাশি বা হাসির দমকে মূত্রাশয় ও মূত্রনালির সংযোগস্থল তার স্বাভাবিক অবস্থান থেকে নেমে আসে এবং প্রস্রাবের বেগ ছাড়াই নিয়ন্ত্রণহীনভাবে সামান্য প্রস্রাব বেরিয়ে যেতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি (ক্রনিক) কাশি বা হাঁপানি, কোষ্ঠকাঠিন্য, অতিরিক্ত শারীরিক ওজন, ধূমপান ইত্যাদি ইউরিনারি স্ট্রেস ইনকন্টিনেন্সের ঝুঁকি বাড়ায়। এ ছাড়া কিছু কিছু ওষুধ যেমন, কাশি বা অ্যালার্জির জন্য ব্যবহূত ওষুধ, মানসিক রোগের কিছু ওষুধ, প্রস্রাব হওয়ার ওষুধ ইত্যাদির কারণেও স্ট্রেস ইনকন্টিনেন্স বেড়ে যেতে পারে।
ইউরিনারি স্ট্রেস ইনকন্টিনেন্সের চিকিৎসা নির্ভর করে প্রস্রাব নির্গত হওয়ার মাত্রা এবং এর তীব্রতার ওপর। প্রাথমিক অবস্থায় বিশেষ পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই শুধু রোগের ইতিহাস এবং শারীরিক পরীক্ষার পর রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে রোগীর জীবনাচরণে কিছু পরিবর্তন আনার ব্যাপারে জোর দেওয়া হয়, যেমন—ধূমপান পরিহার করা, অতিরিক্ত ওজন কমিয়ে ফেলা, কোষ্ঠ পরিষ্কার রাখা ইত্যাদি। গবেষণায় দেখা গেছে, শুধু শতকরা পাঁচ ভাগ ওজন কমাতে পারলে স্ট্রেস ইনকন্টিনেন্সের ৫০ শতাংশ উন্নতি ঘটে। এ ছাড়া প্রস্রাবের পরিমাণ এবং আবহাওয়ার উষ্ণতার ওপর নির্ভর করে পরিমিত পানি পান (কখনোই অতিরিক্ত নয়), যেসব পানীয়তে প্রস্রাবের মাত্রা বেড়ে যায়, যেমন—চা, কফি, কিছু ফলের রস, বিভিন্ন কোমল পানীয় ইত্যাদি পান করা কমিয়ে দিতে হবে। সাধারণত জীবনাচরণের এসব পরিবর্তনে প্রস্রাব লিকেজের মাত্রা কমে আসে।
এসবেও সমস্যার উন্নতি না হলে রোগীকে একটি ব্যায়াম শেখানো হয়, যেখানে রোগী তার মূত্রদ্বার, জননাঙ্গপথ এবং মলদ্বারের চারপাশের মাংসপেশিগুলো (পেরিনিয়াল মাংসপেশি) নিয়মিত বিরতিতে সংকোচন ও প্রসারণ করবে। এ ব্যায়ামের মাধ্যমে পেরিনিয়াল মাংসপেশিগুলোর কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করে মূত্রাশয় এবং মূত্রনালির সহায়ক পরিপোষণকে শক্তিশালী করা হয়। কিন্তু সমস্যা একটাই, সঠিক নিয়মে সঠিক মাংসপেশির সংকোচন করা এবং একনাগাড়ে দীর্ঘদিন (অন্তত টানা ছয় মাস) চালিয়ে যাওয়া একটু কষ্টকর। অধিকাংশ ক্ষেত্রে শুধু এ ব্যায়ামেই শতকরা ষাট থেকে সত্তর ভাগ উন্নতি হয়।
যেসব রোগীর অনিয়ন্ত্রিত প্রস্রাব বের হওয়ার মাত্রা অনেক বেশি বা এর সঙ্গে অন্যান্য উপসর্গ থাকে, তাদের ইউরোডাইনামিক পরীক্ষার মাধ্যমে আরও মূল্যায়ন করে সমস্যার তীব্রতা নির্ণয় করা হয়। সাধারণত এসব ক্ষেত্রে শল্যচিকিৎসা প্রয়োজন হয়। বিভিন্ন ধরনের শল্যচিকিৎসার মধ্যে বর্তমানে উন্নত বিশ্বে শারীরিক মিলনিপথে সিনথেটিক টেপ স্থাপনের মাধ্যমে মূত্রনালিকে সহায়তা দেওয়া হয়। এতে হঠাৎ হাঁচি-কাশির সঙ্গে মূত্রাশয় এবং মূত্রনালির সংযোগস্থল স্বাভাবিক অবস্থান থেকে নেমে আসে না, ফলে নিয়ন্ত্রণহীন প্রস্রাব বেরিয়ে যায় না।

ডা. মুনা সালিমা জাহান
সহকারী অধ্যাপক, প্রসূতি বিদ্যা ও স্ত্রীরোগ বিভাগ
শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ
সূত্র: দৈনিক প্রথম আলো, মে ২৬, ২০১০

Tag: অ্যালার্জি, ঋতুস্রাব, কণ্ঠ, কফ, কান, কাশি, কোষ্ঠকাঠিন্য, ছত্রাক, ধূমপান, পানীয়, প্রসূতি, প্রস্রাব, ব্যায়াম, মলদ্বার, মূত্রাশয়, হাঁপানি, হাসি

You May Also Like…

হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি

হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি ১২ বছর আগেই টের পাওয়া যায়, সতর্ক হবেন কীভাবে

কোলন ক্যানসার

কোলন ক্যানসারকে আইবিএস ভেবে ভুল করছেন না তো?

ক্যানসার

বংশে কারও ক্যানসারের ইতিহাস থাকলে আপনি কতটা ঝুঁকিতে

জ্বরের সঙ্গে শরীর ও গিঁটে ব্যথা

জ্বরের সঙ্গে শরীর ও গিঁটে ব্যথা

Previous Post:ওজন কমানো মানেই না খাওয়া!
Next Post:প্রতিদিন একটি কমলা

Reader Interactions

Comments

  1. rima

    September 19, 2011 at 4:33 am

    আমার ওজন ৬৫ কেজি , বয়স ১৮ বছর , উচ্চতা ৫ ফুট । লন্ডন এ থাকি । গত জুনে আমার গর্ভপাত হয় । তারপর আমি check up করানোর জন্য ডাক্তার এর কাছে যাই । ডাক্তার আমার full health test করে । রিপোর্ট ভালো আসে । ডাক্তার বলেন , আমার কোনো প্রবলেম নেই । তিনি বলেছেন , আমার পরের বার আর কোনো প্রবলেম হবে না । লন্ডন এ ৮৫% মেয়েদের এই রকম প্রবলেম হয় প্রথমবার । পরের বার আবার তারা মা হতে পারে । আমি সম্পূর্ণ সুস্থ । ডাক্তার বলেছেন , যদি আমার মাসিক ঠিকঠাক হয় তাহলে আমি আবার গর্ভধারণ করতে পারব । আমার মাসিক ঠিকঠাক হচ্ছে । আমি সম্পূর্ণ সুস্থ এবং সবল । আমরা তিন মাস অপেক্ষা করেছি । এখন আমি আবার গর্ভধারণ করতে চাই । এবং আমাদের পরিবারের সবাই চায় । কিন্তু আমি খুব ভয়ে আছি । এখন আমি কি করব । এখন যদি আবার গর্ভপাত হয় । please একটা উপদেশ দিন ।

    Reply
    • Bangla Health

      September 21, 2011 at 3:59 am

      আপনার ডাক্তার ঠিকই বলেছেন যে মাসিক ঠিকঠাক হলে আর কোনো সমস্যা হবার কথা না। তবে এই যে আপনি অযথা টেনশন করছেন বা ভয় পাচ্ছেন- এটাও কিন্তু গর্ভপাতের একটা অন্যতম কারণ। গর্ভপাত ব্যাপারটা সচরাচর ঘটে না। আপনি ৮৫%-এর যে হিসাবটা দিয়েছেন- তা ততটা ঠিক নয়।
      তবে আপনার বয়সের কথা বিবেচনা করে এই বয়সে বাচ্চা না নেয়াই ভালো। আপনার ভয়ের ব্যাপারটা নিয়ে স্বামীর কাছে খুলে বলুন। আর বয়সের ব্যাপারেও সবাইকে বুঝিয়ে বলেন। দরকার হলে আপনার ডাক্তারের সাহায্য নিন, যাতে তিনি আপনার পরিবারের সবাইকে বুঝিয়ে বলতে পারেন।
      নিজ ইচ্ছার বিরুদ্ধে সন্তান না নেয়াই ভালো। সময় হলে আপনি নিজ থেকেই বুঝতে পারবেন যে আপনার সন্তান নেয়ার সময় হয়েছে।

      Reply
  2. Sifon

    April 16, 2012 at 5:03 pm

    Sir, Assalamu Alikum. Amar age 35. Amar wife er age 27. Amader protom cele 7 mase jonmer 10 gonta pore mara jay. Er por 2 bar gorbopat hoy. 3 bare amader je cele hoy tar age bortomane 4. Amra punoray sontan nite saile tinmas pore ta nosto hoye jay. Amra kub cintay aci. Ki korbo doya kore poramorso din.

    Reply
    • Bangla Health

      April 19, 2012 at 10:47 pm

      আপনাদের উচিত হবে আগে ডাক্তার দেখিয়ে শরীরস্বাস্থ্য পরিক্ষা করে নেয়া যে সন্তান ধারনের জন্য সব ঠিক আছে কিনা। কোন সমস্যা থাকলে সেগুলো আগে সারিয়ে নেবেন। আর এমনিতে শারীরিক ফিটনেস ঠিক রাখতে হবে। বাচ্চা গর্ভে এলে বাড়তি কিছু সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে, কিছু হালকা ব্যায়াম আছে- সেগুলো করতে হবে। রাতের ঘুম ঠিক রাখতে হবে। স্ত্রী যেন কখনোই কোন দুশ্চিন্তা না করেন- সেদিকে খেয়াল রাখবেন। সর্বোপরি লাইফস্টাইলটা সুন্দর রাখবেন।

      Reply

Leave a Reply Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Bangla Health Tips – Bangla Library – Bangla PDF

top