আমাদের শরীরে নানাভাবে ওষুধ প্রয়োগ করা হয়। মুখে খাওয়ার ওষুধ আর চোখে দেওয়ার ওষুধ একই রকমভাবে শরীরের ভেতরে ছড়িয়ে পড়বে না; কিংবা নাকের ওষুধ ও ফুসফুসে সরাসরি প্রয়োগ করা ওষুধ একইভাবে তৈরি হয় না।
তা ছাড়া ত্বকে লাগানোর ওষুধ কিংবা জিহ্বার মাধ্যমে প্রয়োগ করা ওষুধ একই প্রক্রিয়ায় হজম হয় না। কিছু ওষুধের বিপাক এত দ্রুত হয় যে ওষুধের ক্রিয়া বেশি সময় থাকে না।
তাই এসব ওষুধ ঘন ঘন প্রয়োগ করতে হয়। মানুষের শরীরে বিভিন্ন ওষুধ বিভিন্নভাবে ক্রিয়া করে থাকে।
সাধারণত ওষুধ দুইভাবে মানুষের শরীরে কাজ করে-১· দেহকোষের বাইরে ক্রিয়ার মাধ্যমে এবং ২· দেহকোষের ক্রিয়াপদ্ধতিতে পরিবর্তনের মাধ্যমে। এখানে সাধারণ একটি উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে; যেমন-অ্যান্টাসিড-জাতীয় ওষুধ পাকস্থলীতে এসিডের সঙ্গে বিক্রিয়া করে এসিডকে নিষ্ত্র্নিয় করে। এখানে ওষুধ দেহকোষের বাইরের ক্রিয়ার মাধ্যমে কাজ করছে।
আবার অন্যদিকে দেহকোষের ভেতরে দেহকোষের প্রাচীরে নির্দিষ্ট ধরনের ওষুধের জন্য নির্দিষ্ট ধরনের রিসেপটর থাকে। সাধারণত কোনো ওষুধ রক্তের মাধ্যমে কোষপ্রাচীরে অবস্থিত নির্দিষ্ট রিসেপটরের সঙ্গে বিক্রিয়ার মাধ্যমে ওষুধটি শরীরে কার্যকর হয়; যেমন-এ পদ্ধতিতে ডায়াজেপাম-জাতীয় ওষুধ মস্তিষ্কের বিশেষ কোষকে নিষ্ক্রিয় করে দেয়; যে কারণে ঘুম আসে। মূলত অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ শরীরের বাইরে থেকে আসা জীবাণুকে ধ্বংস করে; এ কাজের কারণে সাধারণত মানুষের শরীরের কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। কিন্তু কোনো কোনো অ্যান্টিবায়োটিকের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা যায়, সে ওষুধগুলো শরীরের দেহকোষগুলোকেও ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এ জন্য চিকিৎসাবিজ্ঞানে অযথা অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।
খুব প্রয়োজন না হলে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা উচিত নয়। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ করলে দেহকোষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
সুভাষ সিংহ রায়
সূত্রঃ দৈনিক প্রথম আলো, মার্চ ০৫, ২০০৮
sorry banglate likhte parini amar ekta prasno saskosto hole rate ki kara uchit…
শ্বাসকষ্ট ও তার প্রতিকার লেখাটি দেখুন।